Thursday, May 2, 2019

feni demands joynal hajari ফিরে এসো জয়নাল হাজারী রক্ষা করো ফেনী

ফেনী শহরটাকে ব্যাশ্যা পাড়ায় পরিনত করেছে নিজাম হাজারী জামাত শিবিরের সাথে পুলিশের সাথে জুয়ারীদের সাথে আঁতাত করে। যার সাথে আরো আওয়ামী লীগের বড় বড় রাঘব বোয়াল জড়িত। নুসরাত ধর্ষণ ও হত্যার সাথে ওসি এস পি ডি এস পি সব জড়িত থাকলে নিজাম হাজারী কি ধোয়া তুলসী পাতা? সে কিছুই জানে না?
আজ জয়নাল হাজারীর কথা বার বার মনে পড়ছে। মনে পড়ছে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জয়নাল হাজারী নিজের ভাগ্নে কে হত্যা করেছিল। তোমায় সালাম হাজারী হে বীর ফেনীতে আজ তোমার বড় প্রয়োজন।
Comment

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বছরের অক্টোবর মাসে হুজুরেরা তাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে।’

সীমা বেগম। বয়স ৩২। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ঢাকার আদালত পাড়ায় ঘোরাঘুরি করছেন। প্রায় সময় তার চোখে জল দেখা যেত। তাকে আদালতে দেখে কথা বলার কৌতূহল জাগে। আদালতে কেন ঘোরাঘুরি করছেন জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে মুবারর মুনতাহা ওরফে সানজিদা রশিদ মীম (১৪) রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসায় নাজরানা শ্রেণিতে পড়তো। দেখতে খুব সুন্দর ছিল। মাদরাসায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় সেখানে থাকতো। সে দেখতে সুন্দর হওয়ায় মাদরাসার হুজুরেরা তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বছরের অক্টোবর মাসে হুজুরেরা তাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচার পাওয়ার আশায় আদালত পাড়ায় ঘোরাঘুরা করছি। আসামিরা খুব প্রভাবশালী। তাদের প্রচুর টাকা রয়েছে। তারা টাকা দিয়ে সবকিছু নিজের মতো করে নিচ্ছে। জানি না মেয়ে হত্যার বিচার পাবো কিনা! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন আমার মেয়ের হত্যাকারীদের যেন বিচার হয়।’

তিনি বলেন, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর মাদরাসার আবাসিক হলে আমার মেয়েকে হুজুরেরা ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তা আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। তার পায়ের নিচে কাটা দাগ ছিল। কোমরের নিচে ছিল আঘাতের চিহ্ন। মাথা ছিল স্বাভাবিক। যদি সে ফাঁস দিয়ে মারা যেতে তাহলে কেন তার পায়ের নিচে কাটা দাগ থাকবে। কোমরের নিচে কেন আঘাতের চিহ্ন থাকবে? আর মাথাইবা কেন স্বাভাবিক থাকবে?।

‘হুজুরেরা নিজেরা বাঁচার জন্য আমার মেয়ের পায়ের নিচে অন্যের হাতের লেখা একটি চিরকুট ফেলে রাখে। চিরকুটে আবাসিক শিক্ষিকা তাসলিমার নাম লেখা হয়’-যোগ করেন সীমা বেগম।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে টাকার লেনদেন

সীমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তাদের পক্ষে করার জন্য ডাক্তারকে আমার সামনে দুই লাখ টাকা দিয়েছে। আমি তার বাস্তব স্বাক্ষী। এছাড়া পুলিশকেও তারা অনেক টাকা দিয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় অনেক টাকা খরচ করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যেন এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করি সে জন্য অন্যের মাধ্যমে আমাদের ৫০ লাখ টাকা দিতে প্রস্তাব দিয়েছে। আমি বলেছি, ‘আমার টাকার প্রয়োজন নেই, মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’

মাদরাসার পরিচালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সানজিদা রশিদ মীমকে ধর্ষণ করে হত্যা করার অভিযোগে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মুমতাজুল করিম ওরফে মোস্তাক আহম্মেদসহ (৫৫) আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার মা সীমা বেগম।

ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ৭ নভেম্বর এই মামলাটি করা হয়। মামলায় ধারা দেওয়া হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯ (৩)/৩০। আদালত পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-মাদরাসার পরিচালকের ছেলে হামীম মিয়া (৩১), মাদরাসার শিক্ষা সচিব হোসাইন আহম্মেদ (৩২), প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ (৩২), মাদরাসার দারোয়ান আবুল (৪৫) কালাম, মহিলা শিক্ষিকা তাসলিমা আক্তর নিপা (২৬), বুয়া রওশন আরা (৪০) ও রামপুরা আবু সাঈদ রেস্তোরাঁর মালিক আব্দুল আজিজ আকন্দ (৫৯)।

মামলার অভিযোগে সীমা বলেন, আমার মেয়ে সানজিদা রশিদ মীমকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসায় ভর্তি করাই। মাদরাসায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় মীম সেখানে থেকে পড়ালেখা করতো। ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমার মেয়েকে প্রতিদিনের মতো খাবার দিতে গেলে ৬ জন শিক্ষক আমাকে আমার মেয়ের সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলে। মেয়ে কোথায় জানতে চাইলে তারা বলে, ‘সে পড়ালেখা করছে।’ তাদের কথায় সন্দেহ হলে আমার স্বামীকে খবর দেই। বেলা ১১টার দিকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ আসে। পুলিশের সঙ্গে মামলার সাক্ষীরা ছাদে গেলে দেখতে পাই আমার মেয়ের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় এবং পা ছাদের ফ্লোরের সঙ্গে লাগানো। সাক্ষীরা পুলিশের নির্দেশে আমার মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে ছাদের ফ্লোরে নামান। সাক্ষীরা ঝুলানো অবস্থা থেকে মৃত কন্যাকে নামানোর পর তার দুই হাতের কজ্বিতে কালো দাগ, পায়ের নিচে কাটা, রক্তাক্ত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধস্তাধস্তির কারণে জখমের চিহ্ন দেখেতে পাই।

আমার স্বামী মেয়ের লাশ আনতে হাতিরঝিল থানায় গেলে পুলিশ সারাদিন তাকে থানায় আটকে রাখে। মেয়ের লাশ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে একটি কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেয়। এই বিষয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপস করার জন্য হুমকি দেয় পুলিশ। হত্যার বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বলে, ‘আমার স্বামী ইতোপূর্বে মামলা করেছেন।’ কোর্টে গিয়ে তার খবর নিতে বলে। কোর্টে গিয়ে দেখি মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে শুধুমাত্র তাছলিমা বেগমের নামে মামলা হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক খালেদ সাইফুল্লাহ একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তাছলিমা আক্তার নিপার বিরুদ্ধে সানজিদা রশিদ মীমকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেয়ার বিষয় সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় করা একটি মামলা বিচারাধীন। অপর আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আর হামিম মিয়া নামে কোনো ব্যক্তিকে বাস্তবে পাওয়া যায়নি।

কোমরের পাশে দাগ ছিল, অন্যসব ছিল স্বাভাবিক

মীমের মৃত্যুর পর সুরতহাল করেন হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম। রিপোর্টে তিনি উল্লেখ করেন, সানজিদা রশিদ মীমের লাশ মাদরাসার পাঁচ তলার টিনশেটের সঙ্গে কমলা রঙয়ের ওড়নার দ্বারা ফাঁস লাগানো অবস্থায় পায়ের পাতা রুমের ফ্লোরে লাগানো অবস্থায় পাই। বুক, পেট ও পীঠ স্বাভাবিক ছিল। কোমরের ডান পাশে দাগ পরিলক্ষিত হয়। হাত ও মলদ্বার স্বাভাবিক ছিল।



বাদী পক্ষের আইনজীবী জিএম মিজানুর রহমান বলেন, মীমের লাশটির পা মেঝেতে লাগানো ছিল! ফ্লোরের সঙ্গে পা লাগানো থাকলে ফাঁস কীভাবে লাগাবে? আত্মহত্যাকারীদের মাথা সাধারণত একদিকে বাঁকা হয়ে হয়ে যায়। তার মাথা ছবিতে দেখা যায়, স্বাভাবিক মানুষের মতোই ছিল। বাদীর সামনে ঢাকা মেডিকেলে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট আসামির পক্ষে করার জন্য টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট সময় মতো না পাওয়ায় এবং তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভিকটিম মীমের লাশ পুনরায় ময়নাতদন্ত করা সম্ভব নয়। কারণ এতদিনে মৃতের লাশটি পচে গেছে। তাই পুনরায় ময়নাতদন্ত করে আর কিছু পাওয়া যাবে না। এভাবে হত্যাকাণ্ড আত্মহত্যা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আমরা নারাজি দেবো।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, এ বিষয় আমি আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে দিয়েছি। আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা ইচ্ছা করলে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিতে পারবেন। মীমের বাবা হারুন মোল্লা বলেন, আমার মেয়েকে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার হুজুরেরা ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে। তাদের অনেক টাকা। তারা টাকা দিয়ে সব নিজের মতো করে নিয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

তিনি বলেন, আমি থানায় কোনো মামলা করিনি। কন্যার লাশ নেওয়ার জন্য পুলিশ জোর করে আমার কাছে থেকে স্বাক্ষর নেয়। এ বিষয় কোনো বাড়াবাড়ি না করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপস করার জন্য পুলিশ হুমকি দেয়।

সীমা বেগম বলেন, মাদরাসার পরিচালকের ছেলে হামীম মিয়া। ধর্ষণের মূল হোতা সে। ঘটনার পর তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মুমতাজুল করিম বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমরা জড়িত নই বলে পুলিশ প্রতিবেদন দিয়েছে। আর হামীম মিয়া নামে আমার কোনো ছেলে নেই।

উল্লেখ্য, রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসাটি ১৯৯২ সালে স্থাপিত হয়। এখানে বর্তমানে মাদরাসা সিলেবাসে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত এবং অন্যান্য জামাআতে পড়ানো হয়। এতে মক্তব, হিফজ ও কিতাব বিভাগ আছে। মাদরাসায় বর্তমানে ৭৮০ জন আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্রী, ৪৫ জন শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারী আছে। বর্তমানে মাদরাসাটি পরিচালনা করছেন চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ মুমতাজুল করিম। সূত্র : জাগোনিউজ

নুসরাত হত্যা: আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি ক্রিকেটার সাইফউদ্দিনের

নুসরাত হত্যা: আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি ক্রিকেটার সাইফউদ্দিনের

সাইফ,

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সারা দেশে বইছে নিন্দার ঝড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঢেউ।
এই ফেনী থেকেই উঠে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নিজ এলাকার কোনো মানুষ এতটা হিংস্র হতে পারে, বিষয়টি ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে তার। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
সাইফউদ্দিন মনে করেন, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য ফেনীর মানুষকে প্রতিবাদী হতে হবে। প্রত্যেকেরই এর প্রতিবাদ করা উচিত।
নুসরাতের লড়াই থেমে যাওয়ায় মন খারাপ সাইফের। বিশেষ করে তার জেলায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে, মানতে পারছেন না তিনি। সম্ভাবনাময়ী ও প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার বলেন, ফেনী শান্তিপ্রিয় এলাকা। এখানে এমন অমানবিক ঘটনা আসলেই আমাকে খুব পীড়া দিচ্ছে। আমি মানুষজনকে বলব, সরকারের একার পক্ষে এমন অপরাধ রোধ করা সম্ভব নয়। আমাদের নিজ থেকে প্রতিবাদ করতে হবে।
নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার প্রধান আসামি ও অভিযুক্ত সোনাগাজী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা। তার মদদপুষ্ট হয়ে এই ঘৃণ্য ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার বলেন, অপরাধী যেই হোক, আমি চাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হোক। আমাদের তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সামনে বিশ্বকাপ। এমন সময়ে চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন সাইফউদ্দিন। তবে এসব নিয়ে বেশি চিন্তা করে ঘুম নষ্ট করতে চান না তিনি। সাইফউদ্দিন বলেন, নিজেকে ফিট রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। সত্যি বলতে কী, আমার সে রকম উদ্বেগ নেই। আমার একমাত্র চিন্তা নিজেকে ম্যাচের জন্য ফিট রাখা। বিশ্বকাপ সামনে, আপাতত আমি এটা নিয়েই ভাবছি।’

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা: 'পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার কারণেই ঘটনা হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়িয়েছে'

নুসরাত জাহান রাফি
বাংলাদেশে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে বাহিনীটির উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত দল।
পুলিশের একজন ডিআইজি'র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত দল বুধবার ফেনীর সোনাগাজীতে গিয়ে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করে।
নুসরাত জাহানের পরিবার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় পুলিশের গাফিলতির কারণে পরিস্থিতি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাহিনীর কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নুসরাত জাহানকে হত্যার ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ যেমন উঠেছে। এরসাথে ঘটনা ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে ঘটনার সময়ের সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি।
এখন এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল ফেনীর সোনাগাজিতে গেছেন। তারা সেখানে নুসরাত জাহানের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেছেন।নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন
পুলিশের এই তদন্ত দলের প্রধান ডিআইজি রুহুল আমিন বলেছেন,তারা সেখানে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলবেন এবং তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করবেন।
তিনি বলছিলেন, "এই ঘটনার শুরু থেকে আমাদের পুলিশ প্রশাসনের যারা এখানে দায়িত্বে ছিলেন,তাদের ভূমিকা কি ছিল? তাদের কোনো গাফিলতি বা ঘাটতি ছিল কিনা, থাকলে সেটা কতটা ছিল এবং কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল কিনা, কোথায় ত্রুটি ছিল-এই বিষয়গুলোই মূলত আমরা তদন্ত করবো।"
"এখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আমরা কথা বলবো। আমরা কথা বলা শুরু করেছি। এমুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলবো না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা কাজটা শেষ করবো।"
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের পরিবার অভিযোগ তুলেছে যে, মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যখন শ্লীলতা হানির অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তখন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি ছিল। সে সময় নুসরাত জাহানকে ডেকে নিয়ে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং এর ভিডিও করে তা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
এনিয়ে অবশ্য ঐ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 নুসরাত জাহানের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেছেন, তাঁর বোনকে হত্যার ঘটনার পর মামলার এজাহারেও ভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে ঘটনাকে অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা ছিল।
"ওসি এখানে ঘটনাটা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করেছিল, সেটা আমার মনে হয়েছে। হত্যার ঘটনাটা ঘটেছিল মাদ্রাসার ছাদের ওপর। সেটাকে এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে বাথরুমকে উল্লেখ করা হয়েছিল।"
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ফেনীতে সাধারণ মানুষ এবং সেখানকার জনপ্রতিনিধিদেরও অনেকের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সোনাগাজী পৌরসভার একজন কাউন্সিলর মর্জিনা আকতার বলছিলেন, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার কারণেই ঘটনা হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়িয়েছে।
"পুলিশের গাফিলতি ছিল বলেই তো মেয়েটা হত্যার শিকার হয়েছে। শীলতাহানি অভিযোগ করার পর পরই ব্যবস্থা নিলেই মেয়েটা হয়তো বেঁচে যেতো।"
সোনাগাজীর পুলিশের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষ নেয়ার অভিযোগ এবং এখন সেখানকার পুলিশ প্রশাসন থেকে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে।
যদিও পুলিশের তদন্ত কমিটি বলেছে তারা সব অভিযোগ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবে। নুসরাতের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী।
কিন্তু মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নিজেদের লোক দিয়ে তদন্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
"আমরা এটা অনেক ধরে বলে আসছি, যখন পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠে, তখন পুলিশের কর্মকর্তাদের দিয়েই তদন্ত করা হয়। ফলে এখানে পুলিশের গাফিলতি ও অভিযোগের ব্যাপারে সঠিক তদন্ত এবং তার কোনো প্রতিকার হবে কিনা, সেই প্রশ্ন আসে।"
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আইন অনুযায়ীই এই তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় সর্বশেষ বুধবার কামরুন্নাহার মণি নামের একজনকে আদালতে হাজির করে গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচদিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আব্দুর রহিম শরিফ নামের আরেকজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় মোট ১৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

শিল্পী তারকারা বিক্ষুব্ধ-

Just now ·

বিক্ষুব্ধ হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বিক্ষুব্ধ হয়ে ঐ সকল নরপশুদের আগুনে পুড়ে মারতে হবে। তবেই নুসরাত আর মীমদের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে। প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায় বিচার।

এর পিছনে যদি কোন আওয়ামী লীগ নেতার কালো হাত কাজ করে বা এম পি মন্ত্রীরা জড়িত থাকে ওদেরকেও প্রতিহত করুন; প্রত্যাখ্যান করুন। পুলিশ জড়িত আছে ইতোমধ্যেই প্রমানিত। ওদের চাকুরীচ্যুত করাতে হবে। তার জন্য আন্দোলন করুন। বিক্ষুব্ধ হয়ে হতাশ হয়ে কোন ফল উদয় হয়না।

 নুসরাত হত্যা : বিক্ষুব্ধ তারকারা

নুসরাতের মত করেই এদের পুড়িয়ে মারার কোন আইন করা যায় না?

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের হৃদয়ে। গতকাল রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুসরাত হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সরব প্রতিবাদে। অভিনয় শিল্পী, কণ্ঠ শিল্পীসহ অনেকেই তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নুসরাতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাইছেন।
রোকেয়া প্রাচী স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘মানুষ মানুষকে নিয়ে ভালোবাসায় মানবিকতায় একসাথে বসবাস করবে, যদি এর বিরুদ্ধে গিয়ে সভ্যতাকে কেউ ধ্বংস করে, নারী এবং পুরুষের মধ্যে বিরোধ আনে, ধর্ষক হয়, অত্যাচারী হয়, নির্মম নিষ্ঠুর হয়, তবে বিলুপ্তি ঘটুক! মানবিক পৃথিবীতে অমানবিক প্রাণীর নাম কি ইতিহাসে পুরুষ হিসেবেই আখ্যা পাবে? পাক, শেষ হোক এই অধ্যায়…’
নুসরাত হত্যার প্রতিবাদ করে চিত্রনায়িকা নিপুণ তার ফেসবুকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা ও একটি ছেলের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন লিখেন, ‘এবার ওর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিতে হবে!’ জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর তার ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘নুসরাত …ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

এই অপূর্ব সুন্দরী ময়না পাখীটিকে ভন্ড লুইচ্চা মাদ্রাসার হুজুরের দল গণ ধর্ষণ করে হত্যা করার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-

নুসরাতের মতই কঠিন বিচার হওয়া চাই। আপনি যদি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু তনয়া হয়ে থাকেন-আশা করি মীমের মাও নুসরাতের পরিবারের মত ন্যায় বিচার পাবে।


রামপুরা মহিলা মাদ্রাসা অনতিবিলম্ভে বন্ধ করা হোক। গ্রেফতার করা হোক সকল লুইচ্চা হুজুরদের।

ঢাকাবাসী, আপনারা কি হিজড়া নাকি পুরুষ! কেন ঐ সকল মাদ্রাসা ধংস করে দেন না? আপনার সন্তানকেও ওরা এভাবেই ধর্ষণ ও বলাৎকার করবে।

আর কেহ যেনো কারো সন্তান মাদ্রাসায় ভর্তি না করেন। নিজের বাসায় প্রাইভেট শিক্ষাদানের ব্যবস্থা নিন।

শিক্ষা মন্ত্রী সমাজকল্যাণ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী রামপুরা মাদ্রাসার সকল লুইচ্চা হুজুরদের গ্রেফতার করুন।



নুসরাতের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী।


10

Friday, March 30, 2018

মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় সমীপে মুক্তির খোলা চিঠিঃ



মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় সমীপে মুক্তির খোলা চিঠিঃ


মহোদয়,

যথাযোগ্য মর্যাদা ও সন্মান পুরঃসর বিনীত নিবেদন এই যে, আমি জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশি জাতীয় কন্ঠশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নূর আলীর ব্যক্তিগত সচিব থাকাকালীণ ২০০২ সালে জামাত বি এন পি জোট সরকারের অবৈধ আস্তানা "হাওয়া ভবনের" ভূয়া মামলা ও নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হই এবং মালদ্বীপে এসে একটি স্কুলে শিক্ষকতা শূরু করি।
আমার চির স্বভাবজনিত দুর্বিনীত প্রতিবাদী মানসিকতার কথা স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান সরকারের বহু নেতা/মন্ত্রীগণ অবহিত রয়েছেন। আওয়ামী লীগ অফিসে বঙ্গবন্ধুর গানের মুক্তি নামেই সর্বজনবিদিত।
আওয়ামী রক্ত তাই প্রবাসে এসেও নীরব থাকতে পারিনি; যে দেশে প্রবাসীদের রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সে দেশে আমি মুক্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ।
মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ( সাবেক হাই কমিশন) এর সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হিসেবে বহু লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে।
এমন কি এতদবিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জেনারেল আবেদীন, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল ফারুক, আব্দুস সোবহান গোলাপ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, জয়নাল হাজারী, শামীম ওসমান, জুনায়েদ আহমেদ পলক ও ডঃ দীপুমনিও অবহিত আছেন।
মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের অনেক অনুষ্ঠানেই বহু মন্ত্রী ও মান্যবর সাবেক হাই কমিশনার রিয়ার এডমিরাল আওয়াল সাহেবও যোগদান করেছিলেন । ভিডিও ও ছবি প্রমানবহন করে (ছবি সংযুক্ত )

মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২০১৪ সালে ইস্কান্দার স্কুলে জাতীয় শোক দিবস পালনের আয়োজন করেছিলাম । সে অনুষ্ঠান করতে দেয়নি হেড অফ দি চ্যাঞ্চেরী হারুন অর রশিদ।

আমি মালদ্বীপের মহামান্য প্রেসিডেন্ট ডঃ ইয়ামীন মাওমুনের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর সামনেই ছিলাম।

হঠাত একটি ফোন এলোঃ
*******************
ঃহ্যালো আমি হেড অফ দি চ্যাঞ্ছেরী হারুন অর রশিদ বলছি;
ঃকে মুক্তি সাহেব বলছেন?
ঃজ্বি
ঃশুনেছি আপনি ১৫ই আগষ্ট পালন করছেন আপনার ইস্কান্দার স্কুলে?
ঃজ্বি আমার সব অনুষ্ঠান তো ইস্কান্দার স্কুলেই হয়ে থাকে।
ঃআপনি এ অনুষ্ঠান করতে পারবেন না; ঐ দিন হাই কমিশন থেকে অনুষ্ঠান করা হবে সূতরাং আপনার অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে;
ঃআমি এ মুহূর্তে কথা বলতে পারছি না; আমি প্রেসিডেন্টের সামনে কাজেই পড়ে কথা বলছি;
ঃআপনি বুঝতে পারছেন তো যে হাই কমিশন আপনাকে কল করেছে?
******************
মালদ্বীপের রাজধানী মালে ইস্কান্দার স্কুলে আমি মুক্তি যে হলটিতে পররাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রবাসী কল্যান ও জনশক্তিমন্ত্রী ইঞ্জিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেরকে সংবর্ধনা দিয়েছি, সে হলেই আয়োজন করেছিলাম জাতীয় শোক দিবস ২০১৪।

সে অনুষ্ঠানের অপরাধেই আমার মালদ্বীপের সোনালী দিনগুলো ১৫ই আগস্টের চেয়েও ভয়াবহ করে তুলেছিল এই হারুন অর রশিদ, হেড অফ দি চ্যাঞ্ছেরী এবং সাবেক হাই কমিশনার রিয়ার এডমিরাল আওয়াল।
********
মালদ্বীপে আমার হাতে গড়া আওয়ামী লীগের ছেলেদের ভয় ভীতি দেখিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিয়ে আমাকে পঙ্গু করে দেয়া হল। তারপরেও হারুন অর রশিদ সাহেবের খায়েশ মিটেনি। সে মালে অবস্থানরত তার পোষা দালাল আদম ব্যবসায়ী, গাঞ্জা ব্যবসায়ী, ডলার ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ নিয়ে চলে এবং সীমাহীন দুর্নীতি লুটপাট করে বেড়ায়। এখানে অতিরঞ্জিত কিছুই লিখছি না। প্রমান সহই দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করেছি আমি তদন্ত চাই। অতি সম্প্রতি সে ঐ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। আমাকে টেলিফোনে মারধর করার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি মালদ্বীপ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

মালদ্বীপ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে গেল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে বাংলাদেশ দূতাবাস গত ২১শে ফেব্রুয়ারি এবং স্বাধীনতা দিবসে একজন ভারতে প্রশিক্ষণ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় কন্ঠশিল্পী ও মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মালদ্বীপ সরকারের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিক্ষক (আমি নিজে ), একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মালদ্বীপে কর্মরত ৩৩ বছরের সিনিয়র ফিজিক্সের শিক্ষক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মীর সাইফুল ইসলাম এবং আর একজন ২৫ বছর যাবত মালদ্বীপে শিক্ষকতায়রত গজল সঙ্গীত শিল্পী মালদ্বীপের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সর্বজনবিদিত শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম।

এই তিন জন শিক্ষকের কাউকেই মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মালদ্বীপস্থ দূতাবাস নিমন্ত্রণ করেন নি। বিষয়টি মালদ্বীপের মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্ট হাউসের কর্মকর্তাদেরও নজরে এসেছে। এ দেশে বাংলাদেশী এই তিনজন শিক্ষকই অত্যন্ত দক্ষতার কারনে এবং বিশেষ করে শফিক ও আমি গানের কারনে প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে কোন মন্ত্রী, ধনিক ব্যবসায়ী, বর্ণাঢ্য বণিক শিল্পী ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কেউ নেই যে আমাদের এই তিনজনকে না চিনেন বা না জানেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে স্বাধীনতা দিবসে আমন্ত্রণ না করার হেতু একটাই হতে পারে যে দেশ আজো স্বাধীন হয়নি অথবা এই দূতাবাস পাকিস্তানের অথবা এই দূতাবাসে মহান স্বাধীনতার স্বপক্ষের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী নেই।

মহান স্বাধীনতা দিবসে কেন আমাদের দূতাবাস নিমন্ত্রণ করেনি? আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভাগীয় মাননীয় মন্ত্রী হিসেবে আপনাকে অবহিত করলাম।
আমরা জাতীয় সম্পদ। আমাদেরকে জাতীয়ভাবেই অপমান করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। কারন জানতে চাই।


মহানুভব, পররাষ্ট্রনীতি ও কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাত আপনার সমগ্র জীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতা আজ পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশাসনিক জটিলতা সমস্যাদি সমাধান ও বিদেশের সাথে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপনে আপনার সততা শ্রম ও সফলতার সূত্র ধরেই আজ সুবিচারের প্রত্যাশায় আপনাকে অবহিত করলাম। যদি বাংলাদেশ সরকার মনে করে আমি বাঙ্গালী নই, বাংলাদেশী নই-আমার পাসপোর্ট বাংলাদেশ সরকার জব্ধ করতে পারে, আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্ত এ অপমানের বোঝা নিয়ে বাঙ্গালী হিসেবে আর মালদ্বীপে পরিচয় দিতে চাইনা। প্রয়োজনে পাসপোর্ট পুড়িয়ে শরণার্থী হয়ে যাবো যেমনটি হয়েছিলাম ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয় নিয়ে।
ভালো থাকুক দেশের মানুষ ভালো থাকুক শেখ মুজিবের নিরস্পেষিত নির্যাতিত লাঞ্ছিত বঞ্চিত অবহেলিত চির দুখি চির সংগ্রামী বাঙ্গালী জাতি।
আল্লাহ আপনার ভালো করুন;
দেশ আরো এগিয়ে যাক, আরো উন্নয়ন ঘটূক, উত্তরোত্তর বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ খ্যাত স্বীকৃতিকে ডিঙ্গিয়ে উন্নত দেশের তালিকায় লিপিবদ্ধ হোক;

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
আপনার একান্ত ভক্ত অনুরাগী
মোকতেল হোসেন মুক্তি
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় কন্ঠশিল্পী
সিনিয়র সঙ্গীত শিক্ষক
ইস্কান্দার স্কুল মালে, মালদ্বীপ

Sunday, March 11, 2018

অশিক্ষিত হতদরিদ্র্য যোদ্ধারাই ৭১ এ সরাসরি যুদ্ধ করেছে

    বেশীর ভাগ বড় লোকের সন্তান ও উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের সদস্যগণই জীবন বাচানোর তাগিদে বেতিব্যস্ত ছিল। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের মধ্যে সর্বাধিক অশিক্ষিত গরীব বাউন্ডেলে ঘর ছাড়া চোর ডাকাত গুন্ডা সমাজের চোখে অপরাধী যুব সম্প্রদায়ের সংখ্যাধিক, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করেন; যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের আদি অন্ত;ইতিব্রিত্ত ঘেটে আজকের প্রজন্মের নিকট নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেন; তারাও খতিয়ে দেখবেন-আমার কথা কতটা সত্যবা মিথ্যা। 


    যারা অধিক শিক্ষিত তাদের মধ্যে ৭০ এর গ্রাজুয়েট ছাত্রলীগের ছেলেরা হয়েছে বি এল এফ (মুজিব বাহিনী) কেউ অফিস, কেউ সংবাদ পত্র কেউ ক্যামেরা হাতে নিয়ে ছবি তুলে বিশ্বের নিকট তুলে ধরার কাজে ব্যস্ত, কেউ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের স্বীকৃতি আদায় ও গণহত্যার আসল চিত্র তুলে ধরার কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন।
সরাসরি বন্দুক হাতে নিয়ে মাঠে ঘাঠে শহরে বন্ধরে নগরে পথে প্রান্তরে পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার মত হিম্মত সাহস মনোবল বেশী ছিল একমাত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ই পি আর পুলিশ নৌ ও বিমান বাহিনীর।
বেসরকারিভাবে যারা সেচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা যোগ্যতা ছিলনা বিধায় তারা দেশের ভিতরে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অনুপ্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য নিজেদের গড়ে তোলেন এবং অস্ত্র নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।

কাজেই আজ ৪৭ বছর পরে তথাকথিত উচ্চ শিক্ষিত বা শিক্ষিত নামক লেবাসধারী জ্ঞানপাপি পন্ডিতদের মূখে রসালো গল্প এবং এই হত দরিদ্র্য মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি তথা বিভাজনের যে সুর, সে সুরের লক্ষণ ভালো নয়।
আপনারা আজ জ্ঞান ব্যবসা করছেন, ৭১ সালেও জ্ঞান ব্যবসা করেই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুজিব বাহিনীর সনদ হাতিয়ে বড় বড় জনসভায় বক্তৃতার হুংকারে মাইক ফাটিয়ে ফেলছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বলুন ত নিজে অস্ত্র হাতে নিয়ে কোন পাক সেনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন কিনা?
বুকে হাত দিয়ে বলুন।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু